রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪



 প্রখ্যাত রহস্য লেখক হেমেন্দ্র কুমার রায়ের পিতা দিনেন্দ্র কুমার রায় লিখিত জার্মান রাজা কাইজার এর ব্যক্তিগত চরিত্র পড়তে পড়তে অকস্মাৎ একটা জায়গায় থমকে গেছি।  যুদ্ধের নায়ক রাজা মহাশয়ের নিজস্ব একজন রূপকার ছিলেন - যিনি ওই বহুকথিত গুম্ফের আবিষ্কর্তা।



রূপকার বলতে আমি কি বোঝাতে চাইছি সেটা নিশ্চয় স্পষ্ট এখন।
সেই নরসুন্দরের নাম হলো হের হাবি।  হাঁ , দিনেন্দ্র কুমার নরসুন্দর কথাটাই ব্যবহার করেছেন।  তাহলে দেখা যাচ্ছে সৌন্দর্যচর্চা আর সৌন্দর্যসেবা ব্যাপারটা নিতান্ত আধুনিক নয়। নরসুন্দর কথাটিও তো তত্সম , তাহলে আজকের বিউটি থেরাপিস্ট দের ও একটা সুপ্রাচীন ঐতিহ্য আছে বলে মানতে হবে।  নরসুন্দর সমাস কী ? মাস্টারমশাই রা ক্লাসঘরে পড়া  ধরে আলোচনা করতে পারেন।  কিন্তু যদি কথাটার লিঙ্গান্তর করার চেষ্টা করা হয় ? কোনো মহিলা তো রাজার রূপের দায়িত্ব নিতেই পারেন রানিমায়ের অনুমতি নিয়ে অথবা  রানিমা নিজেই করতে পারেন।  তাঁকে কি বলা হবে? আবার রানিমায়ের রূপের  পরাকাষ্ঠা দেখাতে স্ত্রী বা পুরুষ উভয়েই যত্নবান হতে পারেন।  তখন তাঁকে কী বলা হবে ? খুব গোলমালে পড়া গেল দেখছি !
গুম্ফ হলো মানব শরীরে পুরুষের লক্ষ্মণ, পৌরুষের আস্ফালন প্রকাশ করতে বরাবর পুরুষ গুম্ফ পরিচর্যা করে এসেছে  যেমন নিজের কাঁধে লাগিয়েছে বীরত্বদ্যোতক পদক।  হিটলার তাঁর গোঁফ নিয়ে অসংখ্য চিত্র আলোকিত করে আছেন, তিনিও জার্মান এবং স্বভাব চরিত্র অদ্ভূত ভাবে আমাদের পূর্বোক্ত রাজার অনুরূপ।  প্রথমজন প্রথম ও দ্বিতীয় জন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রবক্তা। জনৈক রুশ রাষ্ট্রপতির গোঁফ তো রসিকতার কারণ ছিল; তিনি নাকি সহ্য করতে পারতেন না আর কেউ সেরকম গোঁফ রাখলে - এই নিয়েও রসিকতা প্রচুর আছে।
দিনেন্দ্র কুমার লিখেছেন হাবি একটি আরক তৈরী করতেন ঐ গোঁফের জন্য যা সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।  কিন্তু সুচতুর হাবি করলেন কি , ফ্যাশন এর মর্ম বুঝে একরকম কাম্বিশের গুম্ফ কৌপিন  তৈরী করলেন। কায়দা করে ভেজা গোঁফটাকে সেই কাম্বিসের সাহায্যে বেঁধে দিতে হয় উর্ধ্বমুখী করে আর কৌপিন পড়তে হয় ওষ্ঠের ওপরে। ব্যস , হু হু করে তাই বিক্রি করে হাবি বেশ দু মার্ক করে নিলেন। রাজামশাই দেশ শুদ্ধ লোকের এহেন প্রহসন সহ্য না করে নিজের গোঁফ আবার অধোমুখী রাখলেন। প্রজারাও তাঁকে অনুসরণ করে মহাজনো যেন গতঃ সঃ পন্থাঃ ফের অবলম্বন করেছিলেন কিনা বইটাতে তা আর লেখা নেই। এ যেন আবোল  তাবোলের  সেই ছড়াটাকে মনে পড়িয়ে  দেয় , তাই না ? শেষের দু লাইন তো মোক্ষম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন