কটক রোড দিয়ে পুরীর দিকে যাবার পথে ভুবনেশ্বর শহর ছাড়িয়ে ৪ কিলোমিটার মধ্যেই গাড়ি ডান দিকে ঘুরে গেল। জায়গার নাম চক্রপদা। কোথায় যাব জানি না , প্রশ্ন না করেই দুপাশের মাঠঘাট দেখতে লাগলাম ডাক্তারবাবুর পাশে বসে।
দুদিন আগেই এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। আমাদের বেসরকারী নার্সিং হোমে ভাঙচুর হয়ে গেছে ব্যাপক ভাবে। ডাক্তার ব্যানার্জীর এই নার্সিং হোমে এমন ঘটনা এই প্রথম। একটি ইনজেকশন দেবার পরে এক রোগীর আকস্মিক অভাবিত মৃত্যু হয়ে যায়। এতে ডাক্তার বেচারীর কোনো দোষ ছিল না। কিন্তু উত্তেজিত জনতা আমাদের এখানে আক্রমন করে। আমি এখানে চার মাস হলো PRO হয়ে এসেছি ; ডাক্তার ব্যানার্জী আমাকে অকুস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং কোনরকম বাধা দিতে কিম্বা বচসা করতে বারণ করেন। কান্ড সমাপ্ত হলে আমরা ফিরে গিয়েছিলাম সব দেখাশোনা করতে।
সন্ধ্যাবেলা ডাক্তারবাবুর কামরায় ওঁর সঙ্গে বসে ছিলাম। বিশেষ কোনো কথাবার্তা হয়নি। আজ সকালে উনি বললেন 'চল রায় , আজ তোমাকে একটা জিনিস দেখাই' . তারপর এই বেরিয়ে পড়া।
এ রাস্তায় গাড়ি বেশি নেই। শুধু মোটর সাইকেল। দুপাশের শ্যামলিমা রোদে যেন আরো চকচক করছে। 'আর মিনিট পনেরো ' বললেন ডাক্তারবাবু।
আমরা পৌঁছলাম একটা পাঁচিল ঘেরা বাগানবাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেলাম গেট খুলে। বাচ্চাদের কলরব কানে এলো। বাড়ির দিকে যেতেই এক ভদ্রমহিলা ডাক্তারবাবুকে ডেকে নিয়ে গেলেন, আমি অনুসরণ করলাম। এটা একটা ইস্কুল।
'আমি এখানে বাচ্চাদের রেগুলার চেক আপ করতে আসি '- বললেন ডাক্তারবাবু। 'এটা হলো অবৈতনিক এক অনাথ আশ্রম। এদিকে চলে এস ' .
আমরা ঢুকলাম একটা ঘরে - অফিসঘর। অল্পবয়েসী আমার মত একটি ছেলে বসে , দেখে হেসে বসতে বলল। ছেলেটি বিহারী। ডাক্তারবাবু জানালেন তিন বছর হলো ছেলেটি এই অনাথ আশ্রম খুলেছে। ওর বাবা আই এই টি র অধ্যাপক ছিলেন। ও আই আই টি থেকে পাশ করে নিজের মাথা খেয়ে অবৈতনিক অনাথ আশ্রম বানিয়ে বসেছে।
আমরা আলাপ করলাম। ডাক্তারবাবু কাজে চলে গেলেন। আলাপ করে ভালো লাগলো। কিন্তু ছেলেটি মৈত্রীপূর্ণ ব্যবহার করতে জানে না - কাজে ব্যস্ত ব্যস্ত ভাব সবসময়। আমাকে ঘুরে দেখালো তার আশ্রম। বলল সরকারী অনুদানেই আশ্রম চলে কোনরকমে।
প্রায় ঘন্টা তিন কেটে গেল ওখানে। ডাক্তারবাবু ফিরে বললেন 'কেমন লাগলো ? চল এবার ফেরা যাক। '
গাড়িতে উঠে বসলাম আমি আবার আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ডাক্তার বাবুর এহেন যন্ত্রণা উপশমের উপায় দেখে বিস্মিত হলাম - কতরকম যে হয় মানব চরিত্র ! কখনো কখনো মনে হয় এদের সাথে আগে কেন দেখা হয়নি , আবার কখনো মনে হয় এ আপদ কবে বিদায় হবে।
যারা দুদিন আগে ডাক্তারবাবুকে হেনস্থা করেছিল তারা ওঁর এই কর্মপন্থা কী জানে ? জানলে কী ও কাজ করত ? আমি নিজে কখনো পারব ? মানবচরিত্রের খবর কতদূর কে রাখতে সক্ষম হয় ? যতই দিন যাচ্ছে , ইন্টারনেট , ইমেইল , মোবাইল সব দূরত্ব মুছে দিচ্ছে। কিন্তু এই খাপছাড়া দুনিয়ায় মানসিক দূরত্ব এখনো একই রকম। লোকে খাপছাড়া কান্ডে নিজের বিচার বুদ্ধি কাজে লাগানো ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পায়না। মনের প্রসার হয়ত আরো অনেক যুগের প্রয়াসের আবশ্যক পরিণতি।
দুদিন আগেই এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। আমাদের বেসরকারী নার্সিং হোমে ভাঙচুর হয়ে গেছে ব্যাপক ভাবে। ডাক্তার ব্যানার্জীর এই নার্সিং হোমে এমন ঘটনা এই প্রথম। একটি ইনজেকশন দেবার পরে এক রোগীর আকস্মিক অভাবিত মৃত্যু হয়ে যায়। এতে ডাক্তার বেচারীর কোনো দোষ ছিল না। কিন্তু উত্তেজিত জনতা আমাদের এখানে আক্রমন করে। আমি এখানে চার মাস হলো PRO হয়ে এসেছি ; ডাক্তার ব্যানার্জী আমাকে অকুস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং কোনরকম বাধা দিতে কিম্বা বচসা করতে বারণ করেন। কান্ড সমাপ্ত হলে আমরা ফিরে গিয়েছিলাম সব দেখাশোনা করতে।
সন্ধ্যাবেলা ডাক্তারবাবুর কামরায় ওঁর সঙ্গে বসে ছিলাম। বিশেষ কোনো কথাবার্তা হয়নি। আজ সকালে উনি বললেন 'চল রায় , আজ তোমাকে একটা জিনিস দেখাই' . তারপর এই বেরিয়ে পড়া।
এ রাস্তায় গাড়ি বেশি নেই। শুধু মোটর সাইকেল। দুপাশের শ্যামলিমা রোদে যেন আরো চকচক করছে। 'আর মিনিট পনেরো ' বললেন ডাক্তারবাবু।
আমরা পৌঁছলাম একটা পাঁচিল ঘেরা বাগানবাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেলাম গেট খুলে। বাচ্চাদের কলরব কানে এলো। বাড়ির দিকে যেতেই এক ভদ্রমহিলা ডাক্তারবাবুকে ডেকে নিয়ে গেলেন, আমি অনুসরণ করলাম। এটা একটা ইস্কুল।
'আমি এখানে বাচ্চাদের রেগুলার চেক আপ করতে আসি '- বললেন ডাক্তারবাবু। 'এটা হলো অবৈতনিক এক অনাথ আশ্রম। এদিকে চলে এস ' .
আমরা ঢুকলাম একটা ঘরে - অফিসঘর। অল্পবয়েসী আমার মত একটি ছেলে বসে , দেখে হেসে বসতে বলল। ছেলেটি বিহারী। ডাক্তারবাবু জানালেন তিন বছর হলো ছেলেটি এই অনাথ আশ্রম খুলেছে। ওর বাবা আই এই টি র অধ্যাপক ছিলেন। ও আই আই টি থেকে পাশ করে নিজের মাথা খেয়ে অবৈতনিক অনাথ আশ্রম বানিয়ে বসেছে।
আমরা আলাপ করলাম। ডাক্তারবাবু কাজে চলে গেলেন। আলাপ করে ভালো লাগলো। কিন্তু ছেলেটি মৈত্রীপূর্ণ ব্যবহার করতে জানে না - কাজে ব্যস্ত ব্যস্ত ভাব সবসময়। আমাকে ঘুরে দেখালো তার আশ্রম। বলল সরকারী অনুদানেই আশ্রম চলে কোনরকমে।
প্রায় ঘন্টা তিন কেটে গেল ওখানে। ডাক্তারবাবু ফিরে বললেন 'কেমন লাগলো ? চল এবার ফেরা যাক। '
গাড়িতে উঠে বসলাম আমি আবার আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ডাক্তার বাবুর এহেন যন্ত্রণা উপশমের উপায় দেখে বিস্মিত হলাম - কতরকম যে হয় মানব চরিত্র ! কখনো কখনো মনে হয় এদের সাথে আগে কেন দেখা হয়নি , আবার কখনো মনে হয় এ আপদ কবে বিদায় হবে।
যারা দুদিন আগে ডাক্তারবাবুকে হেনস্থা করেছিল তারা ওঁর এই কর্মপন্থা কী জানে ? জানলে কী ও কাজ করত ? আমি নিজে কখনো পারব ? মানবচরিত্রের খবর কতদূর কে রাখতে সক্ষম হয় ? যতই দিন যাচ্ছে , ইন্টারনেট , ইমেইল , মোবাইল সব দূরত্ব মুছে দিচ্ছে। কিন্তু এই খাপছাড়া দুনিয়ায় মানসিক দূরত্ব এখনো একই রকম। লোকে খাপছাড়া কান্ডে নিজের বিচার বুদ্ধি কাজে লাগানো ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পায়না। মনের প্রসার হয়ত আরো অনেক যুগের প্রয়াসের আবশ্যক পরিণতি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন