শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৩

নব উপচারে পূজারম্ভ

অনেক ভেবেচিন্তে আমি কালীপুজোর দিনটা চয়ন করলাম আমার নবরসতর ব্লগ রচনা শুরু করার জন্য। নবরসতর কথাটা কবি রায়গুনাকর ভারতচন্দ্রের থেকে ধার নেয়া। ভারত কবির বিদ্যাসুন্দর কাব্য আজকে প্রাসঙ্গিক (যদিও নবরসতর কথাটা অন্নদামঙ্গল থেকে নেওয়া ) কারণ আজ যে কালীপুজো। শুধু ভারতচন্দ্র নন বিদ্যাসুন্দর রচনা করেছিলেন আবার স্বয়ং অমর মাতৃসাধক কবি রামপ্রসাদ, যে কাব্যের নাম মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেয়া-কবিরঞ্জন বিদ্যাসুন্দর। দ্বিতীয় কাব্য ভক্ত সাধকদের কাছে আদরণীয় কারণ তাতে ভক্তিরস ও আধ্যাত্মিক তত্ত্ব মাখোমাখো। প্রথমটি আমাদের মত জনগনের কাছে কমন এন্টারটেইনমেন্ট, তাই অত্যধিক জনপ্রিয়। এ নিয়ে পরে একটা বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইলো। 

যাইহোক সরস্বতী পুজোর বদলে শ্যামা পূজার দিনেই হাতেখড়ি টা সেরে ফেললাম। আর তর সইলো না।  আফটার অল মায়েরই  তো ভিন্ন রূপ , তাই আর ভাবনা কিসের ? অনেক আগে এক পত্রিকায় পড়েছিলাম মায়ের যে রূপে ভায়োলেন্স আছে সেটা মর্ত্যে সুপার হিট - অতএব ভাসাও তরণী অবিলম্বে। যদিও হাতেখড়ি নেহাত কথার কথা - এখন তো এভরিথিং ডিজিটাল। খড়ি টা একদম পুরনো।  ভারতচন্দ্র বা রামপ্রসাদ যদি আজকের দিনে জন্মাতেন তাহলে হয়ত কি লিখতেন কে জানে, আমার মত ব্লগ লিখতে বসতেন হয়ত। 
বাস্তবিক আজকের দিনে আগেকার মত পান্ডুলিপি বগলে মাগাজিনের অফিস অফিস ঘুরতে হবে না, রয়েছে হাতের কাছে বৈদ্যুতিক সমাজ মাধ্যম- যখন তখন যা খুশি ফেলে দাও, যে খাবে খাবে নয়তো থাকবে পড়ে ।  রামমোহন, উইল্লিয়াম কেরী বাংলায় ছাপাখানা বানানোর চেষ্টায় ছিলেন, এখন তো কোনো ব্যাপার ই নয় বাংলায় টাইপ করে পোস্ট করা- জলবৎ তরলং।  ভাবতে  ইচ্ছে করে ওনারা ব্লগ লিখলে কেমন খোলতাই হতো।  এখন তো সব্বাই ব্লগের কল্যানে লেখক, ওনারা কতটা কলকে পেতেন সন্দেহ। হয়ত দেখা যেত বিদ্যাসাগর মার্কিন মুল্লুকে গবেষণা রত আর রামমোহন সফটওয়্যার কোডিং  করতে করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন নয়তো অন্না হাজারের মত মিডিয়ার খোরাক হয়ে গেছেন। 
সুতরাং আমাদের মত ভদ্র বঙ্গ সন্তান যদি সারস্বত সাধনা করতে চায় তাহলে  সহজ উপায়  হলো ব্লগ, যা আজকে পত্রিকার জায়গাটা দখল করে নিয়েছে।  বই নয় , পত্রিকা নয় , সরস্বতীর অভাগা ভক্তরা এখন ভিড় করতে পারেন ব্লগে।  সরস্বতী মায়ের নব উপচার ব্লগ।  তাই , হে পাঠকবৃন্দ , আমাকেও একটু জায়গা দিন এই মন্দিরে বসতে।        

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন