শিরোনাম দেখেই বোধগম্য যে ব্যাপার টা বইমেলা। তবে কলকাতা বইমেলার মত এলাহি কান্ড নয় কিন্তু প্রচেষ্টা আছে। ভুবনেশ্বরের জনতা ময়দানে ফি বছর হয়।
মাঝারি আকারের ৮-১০ টি ষ্টল , ছোট আরো ৮-১০ টি। ঘুরে দেখতে সময় লাগলো আধ ঘন্টা। ভিড় মোটেই নেই - আরাম করে দেখ। বেশ কিছু লোক গেছে দেখলাম - ছুটির দিনে কিছু লোক বেড়াতে বেড়াতে ঢুকে পড়েছে, কেউ সপরিবারে বাচ্চা নিয়ে এসেছে , ২-৩ জন গম্ভীর ইন্টেলেকচুয়াল আর অল্প কটি স্কুল কলেজ পড়ুয়া আর পরিচিত হাত ধরাধরি করা হংস মিথুনরা বিহার করতে এসেছে। বই এর বিক্রি টিক্রি বেশি নেই , কিছু বাচ্চাদের বই বিক্রি হচ্ছে আর কিছু ছাত্রদের বইপত্র- IIT এবং নানারকম পরীক্ষার গাইড বই। গেটের সামনে খাবারের দোকানে একটু ভিড় , বেশি নয়। একটা মঞ্চ বেঁধে বক্তৃতা হচ্ছে।
ঘুরতে ঘুরতে মঞ্চের সামনে দাড়িয়ে গেলাম। বক্তৃতা দিচ্ছিলেন এখনকার খ্যাতিমান উড়িয়া সাহিত্যিক শ্রী শান্তনু মহান্তি। বয়েস ষাট মনে হলো , ভদ্রলোক একটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ। বলছিলেন দেশের বর্তমান সমস্কৃতি ও রুচির দুর্দশার কথা। মানুষের চরিত্র গঠনে সাহিত্যের ভূমিকার কথা- আদর্শের কথা। উনি যখন Ravenshaw কলেজের ছাত্র ছিলেন সেই সময় ১৯৫১ সালে সবার চোখের সামনে অধ্যক্ষকে রাজনৈতিক গুন্ডাদের হাতে নিগৃহীত হতে দেখেছেন -কলেজের corridor এ কেমব্রিজ এর পিএইচডি শ্রী ব্যান্নার্জী কে কলার ধরা হয়েছিল। বললেন দেবতার মত মানুষ , স্বামী বিবেকানন্দর মত চেহারার ভদ্রলোকের নিগ্রহের কথা আজ ও পরিষ্কার মনে আছে। যারা কাজটি করেছিল কেউ কেউ আজ মন্ত্রী বা MLA . এই দেশের সরকার বরাবর শিক্ষা আর জ্ঞানের পরিপন্থী। তখনি ঐ অবস্থা তো এখন আরও শোচনীয় বটেই। জানা গেল উনি ১৯৫৫ সালের Msc . ভদ্রলোক যথেষ্টই বিবেচনাসম্পন্ন ও সচেতন, ওড়িশা তে এমন লোক বিরল- কিন্তু আছে জেনে খুবই ভালো লাগলো , মঞ্চের সামনে আসনগুলিতে লোক ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। মঞ্চে সেদিন উড়িয়া সাহিত্যের প্রসিদ্ধ লেখক গোপিনাথ মহান্তি কে স্মরণ করা হচ্ছিল।
আজ যাই অবস্থা হোক কলিঙ্গ তে বঙ্গের মতই উনবিংশ শতাব্দী তে মনীষা এবং সাহিত্য সমস্কৃতির স্ফুরণ সঙ্ঘটিত হয়েছিল - বাংলার রেনেসাঁস এর হাত ধরে এখানেও ব্রাহ্ম সমাজ স্থাপনা হয়েছিল , তৈরী হয়েছিল Ravenshaw কলেজ, চর্চা শুরু হয়েছিল জ্ঞান বিজ্ঞান সাহিত্য শিল্প। সেসব এখন বিস্মৃতির অতলে চর্চার এবং চেতনার অভাবে। কবিবর রাধানাথ রায়ের কিছু বই দেখলাম , ছিল উড়িয়া সাহিত্যের 'বঙ্কিমচন্দ্র ' শ্রী ফকির মোহন সেনাপতির রচনাবলী , কবি মধুসূদন দাস আর গোপবন্ধু দাসের বই ও চোখে পড়ল। শিশু কিশোর সাহিত্য বলে কিছু নেই , প্রচুর ধার্মিক পুস্তক - জ্যোতিষ , তন্ত্র মন্ত্র। আর ছিল রান্নার বই। শরত্চন্দ্র উপন্যাসের অনুবাদ, বিমল মিত্রর আসামী হাজির অনুবাদ - রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ অনুবাদ আর কিছু রবীন্দ্রকাব্যের অনুবাদ। এছাড়া ছিল গান্ধীজির বই এর অনুবাদ , শেক্সপীয়ার , ও হেনরি ও Sherlock Holmes অনুবাদ ইত্যাদি। প্রাচীন উড়িষ্যা আদিবাসীদের ছোট একটা রূপকথার সংকলন বই দেখে একটু আগ্রহ হলো। কয়েকটা পত্রিকার ষ্টল আর খবরের কাগজের ২ টো ষ্টল।
দেখা এখানেই শেষ। মেলাটা অনেকটা কলকাতার ছোট ছোট বৈমেলাগুলোর মত - যেমন ঢাকুরিয়া বইমেলা বা বেহালা বইমেলা। (এখন কী আর ওগুলো হয়?) ব্লগ লিখে রাখলাম , পরে যদি কখনো পড়ি মনে পড়বে , চোখে ভাসবে। কারো যদি ভালো লাগে এটা পড়ে - উড়িয়া সাহিত্যর ওপর একটু আগ্রহ জন্মায় তাহলে আগামী কলকাতা বইমেলায় শ্রী ফকির মোহন সেনাপতির রচনাবলীর অনুবাদ সংগ্রহ করতে অনুরোধ করব। আশা করি বইপ্রেমীর ভালই লাগবে - ছোটগল্প গুলো ওয়ার্ল্ড ক্লাস বলে পরিচিত , যদিও দুর্নাম আছে এই বলে যে মুন্সী প্রেমচাঁদ আর বঙ্কিমের থেকে চুরি করা। আত্মচরিত টা প্রথম ওড়িয়া আত্মজীবনী এবং ইতিহাস জড়ানো। সেনাপতির ভাষা বঙ্কিমের মত কঠিন গদ্য নয় - অত লেখাপড়া করার সুযোগ উনি পান নি, কিন্তু ফকির মোহন কে নিয়ে গবেষণা হয়।
মাঝারি আকারের ৮-১০ টি ষ্টল , ছোট আরো ৮-১০ টি। ঘুরে দেখতে সময় লাগলো আধ ঘন্টা। ভিড় মোটেই নেই - আরাম করে দেখ। বেশ কিছু লোক গেছে দেখলাম - ছুটির দিনে কিছু লোক বেড়াতে বেড়াতে ঢুকে পড়েছে, কেউ সপরিবারে বাচ্চা নিয়ে এসেছে , ২-৩ জন গম্ভীর ইন্টেলেকচুয়াল আর অল্প কটি স্কুল কলেজ পড়ুয়া আর পরিচিত হাত ধরাধরি করা হংস মিথুনরা বিহার করতে এসেছে। বই এর বিক্রি টিক্রি বেশি নেই , কিছু বাচ্চাদের বই বিক্রি হচ্ছে আর কিছু ছাত্রদের বইপত্র- IIT এবং নানারকম পরীক্ষার গাইড বই। গেটের সামনে খাবারের দোকানে একটু ভিড় , বেশি নয়। একটা মঞ্চ বেঁধে বক্তৃতা হচ্ছে।
ঘুরতে ঘুরতে মঞ্চের সামনে দাড়িয়ে গেলাম। বক্তৃতা দিচ্ছিলেন এখনকার খ্যাতিমান উড়িয়া সাহিত্যিক শ্রী শান্তনু মহান্তি। বয়েস ষাট মনে হলো , ভদ্রলোক একটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ। বলছিলেন দেশের বর্তমান সমস্কৃতি ও রুচির দুর্দশার কথা। মানুষের চরিত্র গঠনে সাহিত্যের ভূমিকার কথা- আদর্শের কথা। উনি যখন Ravenshaw কলেজের ছাত্র ছিলেন সেই সময় ১৯৫১ সালে সবার চোখের সামনে অধ্যক্ষকে রাজনৈতিক গুন্ডাদের হাতে নিগৃহীত হতে দেখেছেন -কলেজের corridor এ কেমব্রিজ এর পিএইচডি শ্রী ব্যান্নার্জী কে কলার ধরা হয়েছিল। বললেন দেবতার মত মানুষ , স্বামী বিবেকানন্দর মত চেহারার ভদ্রলোকের নিগ্রহের কথা আজ ও পরিষ্কার মনে আছে। যারা কাজটি করেছিল কেউ কেউ আজ মন্ত্রী বা MLA . এই দেশের সরকার বরাবর শিক্ষা আর জ্ঞানের পরিপন্থী। তখনি ঐ অবস্থা তো এখন আরও শোচনীয় বটেই। জানা গেল উনি ১৯৫৫ সালের Msc . ভদ্রলোক যথেষ্টই বিবেচনাসম্পন্ন ও সচেতন, ওড়িশা তে এমন লোক বিরল- কিন্তু আছে জেনে খুবই ভালো লাগলো , মঞ্চের সামনে আসনগুলিতে লোক ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। মঞ্চে সেদিন উড়িয়া সাহিত্যের প্রসিদ্ধ লেখক গোপিনাথ মহান্তি কে স্মরণ করা হচ্ছিল।
আজ যাই অবস্থা হোক কলিঙ্গ তে বঙ্গের মতই উনবিংশ শতাব্দী তে মনীষা এবং সাহিত্য সমস্কৃতির স্ফুরণ সঙ্ঘটিত হয়েছিল - বাংলার রেনেসাঁস এর হাত ধরে এখানেও ব্রাহ্ম সমাজ স্থাপনা হয়েছিল , তৈরী হয়েছিল Ravenshaw কলেজ, চর্চা শুরু হয়েছিল জ্ঞান বিজ্ঞান সাহিত্য শিল্প। সেসব এখন বিস্মৃতির অতলে চর্চার এবং চেতনার অভাবে। কবিবর রাধানাথ রায়ের কিছু বই দেখলাম , ছিল উড়িয়া সাহিত্যের 'বঙ্কিমচন্দ্র ' শ্রী ফকির মোহন সেনাপতির রচনাবলী , কবি মধুসূদন দাস আর গোপবন্ধু দাসের বই ও চোখে পড়ল। শিশু কিশোর সাহিত্য বলে কিছু নেই , প্রচুর ধার্মিক পুস্তক - জ্যোতিষ , তন্ত্র মন্ত্র। আর ছিল রান্নার বই। শরত্চন্দ্র উপন্যাসের অনুবাদ, বিমল মিত্রর আসামী হাজির অনুবাদ - রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ অনুবাদ আর কিছু রবীন্দ্রকাব্যের অনুবাদ। এছাড়া ছিল গান্ধীজির বই এর অনুবাদ , শেক্সপীয়ার , ও হেনরি ও Sherlock Holmes অনুবাদ ইত্যাদি। প্রাচীন উড়িষ্যা আদিবাসীদের ছোট একটা রূপকথার সংকলন বই দেখে একটু আগ্রহ হলো। কয়েকটা পত্রিকার ষ্টল আর খবরের কাগজের ২ টো ষ্টল।
দেখা এখানেই শেষ। মেলাটা অনেকটা কলকাতার ছোট ছোট বৈমেলাগুলোর মত - যেমন ঢাকুরিয়া বইমেলা বা বেহালা বইমেলা। (এখন কী আর ওগুলো হয়?) ব্লগ লিখে রাখলাম , পরে যদি কখনো পড়ি মনে পড়বে , চোখে ভাসবে। কারো যদি ভালো লাগে এটা পড়ে - উড়িয়া সাহিত্যর ওপর একটু আগ্রহ জন্মায় তাহলে আগামী কলকাতা বইমেলায় শ্রী ফকির মোহন সেনাপতির রচনাবলীর অনুবাদ সংগ্রহ করতে অনুরোধ করব। আশা করি বইপ্রেমীর ভালই লাগবে - ছোটগল্প গুলো ওয়ার্ল্ড ক্লাস বলে পরিচিত , যদিও দুর্নাম আছে এই বলে যে মুন্সী প্রেমচাঁদ আর বঙ্কিমের থেকে চুরি করা। আত্মচরিত টা প্রথম ওড়িয়া আত্মজীবনী এবং ইতিহাস জড়ানো। সেনাপতির ভাষা বঙ্কিমের মত কঠিন গদ্য নয় - অত লেখাপড়া করার সুযোগ উনি পান নি, কিন্তু ফকির মোহন কে নিয়ে গবেষণা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন